![]() |
| Collected |
সারাদেশে এবং রাজশাহী, রংপুর, সিলেট বিভাগে লোডশেডিং বেড়েছে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে দুর্ভো গ সবচেয়ে বেশি। ঠাকুরগাঁওগাঁ , দিনাজপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্তর্য বিদ্যু ৎ চলে গেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আট ঘণ্টা বিদ্যু ৎ নেই বলে অভিযোগ স্থা নীয়দের। শহরের চেয়ে গ্রামের অবস্থা খারাপ। প্রচণ্ড গরমে লোডশেডিং সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।
এদিকে ঈদের আগে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দোকানিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। পিডিবি বলছে, এলএনজি আমদানি কমে যাওয়ায় গ্যাসের উৎপাদন কমেছে। ফলে লোডশেডিং হচ্ছে। তেল-গ্যাস সংকটে বিদ্যু ৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্টসৃ তেল সংকটের কারণে তেলভিত্তিক বিদ্যু ৎকেন্দ্র ও বিবিয়ানা গ্যাস প্লান্ট বন্ধ হয়ে গেছে এবং গ্যাসের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যু ৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় দেড় হাজা র মেগাওয়াট কম বিদ্যু ৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এই শূন্য শূ তা পূরণের জন্য দেশজুড়েজু লোড ভাগাভাগি করা হচ্ছে। টানা এক ঘণ্টা লোডশেডিং করে ৩০ মি নিট বিদ্যু ৎ দেওয়া হচ্ছে।
এ কারণে লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক। টানা লো ডশেডিং ও আষাঢ়ের প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভো গে পড়েছেন বৃদ্ধবৃ ও শিশুরা। এছাড়া বিদ্যু তের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিদ্যু তের অভাবে সেচ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় চলতি আউশ মৌসুমের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যুরো পাঠায় এ বিষয়ে খবর রাজশাহী: মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন দিন ধরে বেশির ভাগ সময় বিদ্যু ৎ পাচ্ছে না মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় দিনরাত এক ঘণ্টা লো ডশেডিং করে ৩০ মিনিট বিদ্যু ৎ দেওয়া হচ্ছে।
কোথাও কোথাও একটানা তিন-চার ঘণ্টা লো ডশেডিং চলছে। অসহ্য গরমে নির্ঘুমর্ঘু রাত কাটাচ্ছেন অনেকেই। এদিকে বিদ্যু তের অভাবে সেচ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় চলতি আউশ মৌসুমের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজশাহী অঞ্চলে র বিদ্যু ৎ বিতরণ কোম্পানি নর্দা ন ইলেকট্রিসিটি সা প্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রশিদ সোমবার বলেন, গ্রিডলাইন থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যু ৎ পাচ্ছে। তবে অগ্রাধিকারের কথা বিবেচনা করে হাসপাতাল বা সেবা সংস্থার এলাকায় সরবরাহ রাখার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও জানান, এ অঞ্চলের আট জেলায় দৈনিক বিদ্যু তের চাহিদা ৪৮০ মেগাওয়াট বা তার বেশি। কিন্তু তিন দিন ধরে সরবরাহ আসছে ৩৬ মেগাওয়াট। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় রেশন সরবরাহ করা হয়েছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা বলতে পারেননি তিনি। অসহনীয় লোডশেডিং মহানগরী ও বাজারগুলোতে স্থবিরতা সৃষ্টিসৃ করছে। সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সাহেব বা জারের মুদি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিদ্যু ৎ ছাড়া দোকানে বসতে পারি না।
গরমে দোকানে আসছেন না ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা দ্রুতদ্রু বিদ্যু ৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান। শহরের বাইরে গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও খারাপ বলে জানা গেছে। গোদাগাড়ীর বাসিন্দা আলমগীর কবির জানান, গত ২ জুলা জু ই রাতে ওই এলাকা য় বিদ্যু ৎ ছিল না । ৩ জুলা জু ই সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্তর্য চারবার বিদ্যু ৎ আসে। সোমবার সকাল Page 1 of 2 সাড়ে ১০টায় কিছু সময়ের জন্য বিদ্যু ৎ চলে গেলেও ২০ মিনিট পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর দেড়টা পর্যন্তর্য বিদ্যু ৎ আসেনি।
তানোর উপজেলার পাঁ চপাঁন্দর এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, বেশির ভাগ সময় বিদ্যু ৎ থাকে না। মানুষের দুর্ভো গ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। অন্ধকারে রয়েছে হাজার হাজার গ্রামীণ গ্রাহক। রংপুর: বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে রংপুর নগরী ও বিভাগের মানুষ। নগরসহ বিভাগের আট জেলায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যু তের চাহিদা থাকলেও তারা পাচ্ছেন ৫০০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট। এ কারণে লোডশেডিং পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছে। নেসকো বলছে, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় সমস্যা।
নেসকো সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠা কুরগাঁওগাঁ ও পঞ্চগড় জেলায় চাহিদার চেয়ে ৪০০ মেগাওয়াট বেশি ঘাটতি রয়েছে । ফলে অনেক জায়গায় বিদ্যু ৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। তবে পর্যা য়র্যা ক্রমে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যু ৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। আধা ঘণ্টা ও এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। নগরীর মডার্ন মোড়ের ব্যবসায়ী আবুসুফিয়ান মুকুল বলেন, আগে থেকেই প্রচণ্ড গরম। তার ওপর বিদ্যু তের এমন খেলায় অস্বস্তিতে মানুষ। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা জরুরি। গ্র্যান্ড হোটেল মোড় এলাকার ফারুক বলেন, ঈদের আগে এই বিদ্যু ত দেওয়া হলে ব্যবসা করব কীভাবে। এ কারণে কারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে জানান কারখানা মালিকরা।

0 মন্তব্যসমূহ